সিএনবি নিউজঃ ঢাকার কেরানীগঞ্জ উপজেলার শুভ্যাঢা ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ড বিএনপির নেতার আবুল কাশেম সম্রাট ও ফারুক আহমেদ সহ ৫/৭জনকে নেতাকর্মীকে দলীয় কার্যালয়ে প্রবেশ করে কুপিয়ে গুরুত্বর জখম করে কেরানীগঞ্জ উপজেলা সভাপতি নিপুণ রায় চৌধুরীর ক্যাডার হারুন বাহিনী। এঘটনায় কেরানীগঞ্জ দক্ষিণ থানা মামলা করতে গেলে নিপুণ রায় চৌধুরীর নির্দেশে মামলা নেয়নি থানার ওসি মাজাহারুল ইসলাম। তবে নিপূণ রায় চৌধুরী তার ক্যাডার হারুন বাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছে যেন আবুল কাশেমের পা দুটি কেটে নিয়ে তার কাছে জমা দেয়া হয়। একারনে কাশেম জীবন বাঁচাতে পালিয়ে বেড়াচ্ছে।
স্থানীয় এলাকাবাসী ও অভিযোগ সুত্রে জানা গেছে, স্থানীয় বিএনপি নেতা ভিকটিম আবুল কাশেমের নেতৃত্বে অন্যান্য নেতাকর্মী ও স্থানীয় এলাকাবসী ২১ফেব্রুয়ারী-২০২৫ তারিখে শুভাঢ্যা উত্তরপাড়া গোলাম বাজার এলাকায় একটি মাদক বিরোধী মিছিল করেন। অপরদিকে, স্থানীয় বিএনপির অপর একটি গ্রুপের নেতা হারুন মাষ্টার (৪০), রাজু (৩৮), জাভেদ (৩৫), হাসমত (৪০), ফয়সাল (৩২), আমজাদ (৪৩), টুন্ডা রুবেল, মো: বাবু (৩০), কাদের (৪০), নাহিদ (৪০), মিরাজ (২৫), ভেন্ডি (২৫), ছোট জুয়েল (২৫), বিল্লাল (৫৫) ও মোবারক (২২) সহ আরো অজ্ঞাতনামা ১৫/২০ জন মাদক চক্রের সক্রিয় সদস্য ও ডিলারগন বিগত আওয়ামীলীগ সরকার আমলে এলকায় মাদক ক্রয়-বিক্রয়, চাঁদাবাজির সহ সকল অপরাধের সঙ্গে জড়িত। এরা বর্তমানে বিএনপির রাজনীতির সাথে যুক্ত হয়ে গেছে। উক্ত মিছিলের জের ধরে হারুন বাহিনীর এই সদস্যরা ২৩ফেব্রুয়ারী-২০২৫ তারিখ রাত সাড়ে ৮টার দিকে গোলাম বাজারস্থ বিএমপির মূল দলের ক্লাবে বসে ভিকটিম ফারুক, আমির, রাজু, আমির হোসেন সহ আরো লোকজন টিভি দেখা অবস্থায় তাদের উপর হামলা চালায়। হারুন ও তার বাহিনীর সদস্যরা ক্লাবের ভেরত প্রবেশ করে হাতে থাকা লোহার রড, চাপাতি, পিস্তল, রামদা, ছেনি, বোম ইত্যাদি দেশীয় অস্ত্র-সস্ত্র দিয়ে এলোপাথারী আঘাত করতে থাকে। হারুন ধারালো অসস্ত্র দিয়ে জাহাঙ্গীরের পিঠের বাম পাশে কুপিয়ে গুরুত্বর জখম করে। ভিকটিম ফারুকের মাথায় ধারালো রামদা দিয়ে সজোড়ে কোপ দিয়ে গুরুত্বর আহত করে সন্ত্রাসী জাভেদ।
অপর আসামী হাসমত, ফয়সাল, আমজাদ, টুন্ডা রুবেল, মোঃ বাবু, কাদের, নাহিদ, মিরাজ, ডেন্ডি, ছোট জুয়েল, বিল্লাল, মোবারক সহ ১৫/২০ জন হাতে লোহার রড, লাঠি ও অন্যান্য অন্ত্র দিয়ে ক্লাবের ভেতরে থাকা সবাইকে এলোপাথারী পিটিয়ে গুরুত্বর জখম করে। এসময় আসামীরা নগদ ১লাখ ৬৫ হাজার ৭শ টাকা, ১৮ হাজার টাকা মূল্যে ১টি মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়া সহ ক্লাবের আনুমানিক ২লাখ ৪০ হাজার টাকার আসবাবপত্র ভাংচুর পূর্বক ব্যাপক ক্ষতি সাধন করে চলে যায়। পরে গুরুত্বর আহত জাহাঙ্গীর, ফারুক, আমির, রাজু ও আমির হোসেন সহ অন্যান্যদের রাজধানীর স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (মিটফোর্ড হাসপাতাল) নিয়ে চিকিৎসা প্রদান করা হয়। চিকিৎসাশেষে হামলার শিকার বিএনপি নেতা আবুল কাশেম দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করলে কেরানীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি নিপূন রায় চৌধুরীর নির্দেশে মামলা গ্রহন করেনি থানার ওসি মাজারুল ইসলাম।
আহত ফারুক বলেন, ছাত্র-জনতার আন্দোলনে পুলিশের গুলিতে আমার ছেলে শহীদ হয়েছে। আমি কতটা ক্ষতিগ্রস্থ একমাত্র আল্লাহ জানে। গত ১৫বছর আওয়ামীলীগের নির্যাতনে ঘরে থাকতে পারিনি। আর এখন আমাকে কুপিয়ে মাথা ফাটিয়ে দিয়েছে। হারুনরা আগে আওয়মীলীগের রাজনীতি করতো এখন বিএনপিতে নিপূন রায় চৌধুরীর রাজনীতি করে।
বিএনপি নেতা আবুল কাশেম বলেন, আমরা থানায় মামলা করতে গিয়েছি, নিপুন রায় চৌধুরীর নির্দেশে ওসি আমাদের মামলা গ্রহন করেনি। আমাকে মেরে ফেলার জন্য হারুন বাহিনী খুজে বেড়াচ্ছে। নিপুন রায় চৌধুরী হারুন বাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছে, আমার পা দুটি কেটে নিয়ে তার কাছে জমা দিতে। আমি প্রান ভয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছি। বাসায় যেতে পারছিনা। সিনিয়র নেতৃবৃন্দকে বিষয়টি জানিয়েছি, কিন্তু কোন প্রতিকার পাচ্ছি না।
এব্যাপারে জানতে নিপূন রায় চৌধুরীর মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল দিলেও তিনি কল রিসিভ করেননি। তবে কোন সাংবাদিক কি নিউজ করলো তা নিয়ে তার ‘ডোন্ট কেয়ার’ বক্তব্যটি ইতিমধ্যে নেট দুনিয়ায় ভাইরাল হয়ে গেছে।
দক্ষিন কেরানীগঞ্জ থানার ওসি মাজাহারুল ইসলাম বলেন, এমন কত অভিযোগই তো আমার কাছে আসে, কোন অভিযোগটা মনে পড়ছেনা, ওদেরকে আমার কাছে পাঠায়েন তো দেখবো নে বিষয়টা কি?। আমার কাছে না এসে এভাবে ঘুরলে কি কাজ হবে। তবে নিপুন রায় চৌধুরী আপনাকে মামলা নিতে নিষেধ করেছে এমন প্রশ্নের জবাবে বলেন, না, এমন কোন ঘটনা ঘটেনি।


