সিএনবি নিউজঃ গত জুলাই মাসে ঘটে যাওয়া কোটা বিরোধী সংস্কার আন্দোলন এবং ৫ ই অগাস্ট বিগত সরকারের রাষ্ট্র ক্ষমতা থেকে পলায়ন এবং সর্বোপরি রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন এবং রাষ্ট্র কতৃক গৃহীত সংস্কার ভাবনা বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ অভিমত প্রকাশ করেছেন মাদক বিরোধী সচেতন নাগরিক সমাজ নারায়ণগঞ্জের আহবায়ক ও আমরা নারায়ণগঞ্জবাসী সংগঠনের সাংগঠনিক সম্পাদক বদরুল হক।
তিনি মনে করেন রাষ্ট্রের এখন প্রথম এবং প্রধান দায়িত্ব দ্রুততম সময়ের মধ্যে সুশাসন নিশ্চিতের মাধ্যমে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে জনজীবনে স্বস্তি ফিরিয়ে আনা, যা প্রতিটি জনগণের কাম্য। রাষ্ট্রের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় প্রধান দায়িত্ব পালন করে পুলিশ বাহিনী! পাশাপাশি সহযোগী আরো কিছু বাহিনী বিশেষ প্রয়োজনে পুলিশ বাহিনীকে সহযোগিতা করে থাকে! অথচ অকপটে নির্দ্বিধায় আমরা সবাই একবাক্যে স্বীকার করবো বিগত সরকারের আমলে রাজনৈতিকভাবে পুলিশ বাহিনীকে ব্যবহার করার ফলে রাষ্ট্রের নানা অনিয়মের সাথে পুলিশ বাহিনী আষ্টেপিষ্টে জড়িয়ে গিয়েছিল। ফলশ্রুতিতে রাষ্ট্রের আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতির মাধ্যমে সুশাসন বিঘ্নিত হয়, দল বা ব্যক্তি কেন্দ্রিক হয়ে পড়ে প্রতিষ্ঠানটি।
রাষ্ট্রের অচলাবস্থা সম্বন্ধে তিনি মনে করেন রাষ্ট্র যখন সুশাসন নিশ্চিতে ব্যর্থ হয় বিচার ব্যবস্থা দুর্নীতিগ্রস্ত হয়ে পড়ে তখন স্বাভাবিকভাবেই দেশজুড়ে নানা অনিয়ম ডালপালা মেলতে থাকে! একসময় তা অনিয়ন্ত্রিত হয়ে পড়ে! বেপরোয়া হয়ে পড়ে দেশদ্রোহী লুটেরা বিশৃঙ্খলাকারিরা।
তিনি বলেন রাষ্ট্রে সুশাসন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে পুলিশ বাহিনীকে “মেন্টালি মোটিভেটেড”করে কর্তব্যের প্রতি দায়িত্বশীল ও রাষ্ট্রের প্রতি অনুগত্য রেখে সঠিক ভূমিকা রাখার নিমিত্তে কাউন্সিলিং করানো প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন! সমাজের প্রতি পুলিশ বিভাগের গুরুত্ব বিবেচনায় পুলিশ বাহিনীকে সময়োপযোগী করে গড়ে তোলার প্রয়োজনে নানামুখী কার্যকরী উদ্যোগ বা সংস্কার গ্রহণ করা প্রয়োজন! তিনি বলেন সংশোধন ও পরিমার্জন এবং বুদ্ধিদীপ্ত বিবেচনা দিয়ে পুলিশ বাহিনীকে জনগণের আস্থার জায়গায় ফিরিয়ে আনা এখন সময়ের প্রথম দাবি।
রাষ্ট্র ব্যবস্থাকে ঝুঁকির মধ্যে রেখে সংস্কার কর্মসূচির ভবিষ্যৎ ঝুঁকিপূর্ণ তাই বিচক্ষণতার সাথে সকল প্রতিবন্ধকতার মোকাবেলা করা এবং দ্রুততম সময়ের মধ্যে রাষ্ট্রে সুশাসন নিশ্চিত করার প্রতি তিনি সংস্কার যোদ্ধাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। কেননা নিরাপদ পৃথিবীতে এক বেলা না খেয়ে থাকা যায় কিন্তু ভয়-উৎকণ্ঠা নিয়ে এক মুহূর্ত থাকা যায় না।
মোটকথা চারপাশ অরক্ষিত ঝুঁকিপূর্ণ রেখে নিজেকে সুরক্ষিত ভাবা বোকামি ছাড়া আর কিছু নয় বলে তিনি অভিমত প্রকাশ করেন। দেশব্যাপী জেলায় জেলায় পুলিশ বাহিনীতে জনবল নিয়োগ দিয়ে চিহ্নিত বিতর্কিতদের ছাটাই বা নিষ্ক্রিয় করে শূন্য পদে নতুনদের নিয়োগ দেওয়া অথবা বিগত দিনে বঞ্চিত বা পিছিয়ে পড়াদের সামনের সারিতে ফিরিয়ে আনার উপর তিনি অধিক গুরুত্ব আরোপ করেন! অর্থাৎ ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিদের পুলিশ বিভাগ থেকে নিষ্ক্রিয় করে পুলিশ বাহিনীকে রাষ্ট্রের অনুকূলে নিরাপদ বাহিনীতে রূপান্তর ঘটিয়ে সামাজিক শৃঙ্খলা আনয়ন এখন প্রধান এবং প্রথম কাজ বলে তিনি মত প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন আমরা শান্তিময় বাংলাদেশ দেখতে চাই বিধায় নতুন করে সকল ধরনের চক্রান্ত এবং ফলশ্রুতিতে হানাহানি রক্তপাত এড়াতে পুলিশ বাহিনীর দ্রুত সংস্কারের কোন বিকল্প নেই। জনগণের পুলিশ বিভাগের প্রতি শত্রু বা প্রতিপক্ষ ভাবাপণ্য মনোভাব পরিহার করতে হবে এবং সে লক্ষ্যে রাষ্ট্র কর্তৃক দৃশ্যমান পদক্ষেপ গ্রহণ জনগণের মনে আশার সঞ্চার করবে বলে তিনি অভিমত প্রকাশ করেন।


