শুল্কারোপের পরিণাম অত্যন্ত বিপজ্জনক হতে পারে। বাংলাদেশের চেয়ে প্রতিযোগী দেশ তুরস্ক, ভারত ও পাকিস্তান সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। ফলে আমরা মার্কিন ক্রেতাদের পক্ষ থেকে পণ্যের দামের ক্ষেত্রে বড় চাপের মুখোমুখি হব। প্রতিযোগিতা তীব্র হবে। দাম কমতে থাকবে, ফলে পোশাক শিল্পটি অস্থিতিশীল হয়ে উঠবে। এ বিষয়ে আগে থেকে সক্রিয় লবিং বাংলাদেশকে সাহায্য করতে পারত।
যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যের ওপর আমাদের শুল্ক পুনরায় সমন্বয়ের একটি কৌশল হতে পারে, যা আমাদের এখনই ভাবতে হবে। যদিও ভিয়েতনাম দুদিন আগে শুল্ক কমিয়েও ভালো ফল পায়নি। অর্থাৎ ট্রাম্প প্রশাসনের মনোভাব ঠিক করা সম্ভব মনে হলেও সক্রিয় অর্থনৈতিক কূটনীতি ছাড়া তা বদলানো যাবে না।
বাংলাদেশ থেকে ২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রে মোট পোশাক রফতানি হয়েছে ৭৩৪ কোটি ২৮ লাখ ৫০ হাজার ডলারের। এর মধ্যে কটন পণ্য ৫১২ কোটি ৪০ লাখ ৭০ হাজার ডলারের। কটনবহির্ভূত ও অন্যান্য পণ্য রফতানি হয়েছে ২২১ কোটি ৮৭ লাখ ৮০ হাজার ডলারের। অর্থাৎ আমাদের মোট রফতানির ৭০ শতাংশ কটনভিত্তিক। এখন যদি আমরা আরো বেশি আমেরিকান তুলা ব্যবহার করতে পারি, তবে অতিরিক্ত শুল্ক এড়িয়ে চলা এবং মার্কিন বাজারে প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা পাওয়ার সম্ভাবনা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো যেতে পারে। আর তা রক্ষা বা উদ্ধারকারী ব্যবস্থা হিসেবে ধরা দিতে পারে। তবে পাকিস্তান ও ভারতও তাদের রফতানিতে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ মার্কিন তুলা ব্যবহার করে, তাই তারা আমাদের জন্য শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে থাকবে।
ড. রুবানা হক, সাবেক সভাপতি, বিজিএমইএ


