শনিবার ,   ১৪ই ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ ,   ২৯শে আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ,  ১৫ই রবিউল আউয়াল, ১৪৪৮ হিজরি
Cnbnews

তিতাসের ফতুল্লা কার্যালয়, ঘুষের টাকা ভাগাভাগি হয় দপ্তরে বসেই

Print Friendly, PDF & Email

জাফর ইকবালঃ দিনভর তিতাস গ্যাসের অবৈধ সংযোগ এবং অননুমোদিত লোডের বিনিময়ে সংগ্রহ করা হয় ঘুষের টাকা। এরপর সেই টাকা ভাগাভাগি হয় সরকারি দপ্তরে বসেই। সবাই সবার অংশ বুঝে নেন। যেই কক্ষে টাকার ভাগভাটোয়ারা হয়, তার অন্য পাশেই প্রধান কর্মকর্তার কক্ষ। অভিযোগ রয়েছে, অফিসের প্রধান কর্মকর্তা বা ব্যবস্থাপক মশিউর রহমানের যোগসাজশে দিন দিন আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন নিম্নপদস্থ কর্মকর্তারা। তিতাস গ্যাসের ফতুল্লা আঞ্চলিক বিক্রয় অফিসে এমন কয়েকজন কর্মকর্তার টাকা ভাগাভাগির কয়েকটি ভিডিও এসেছে কালবেলার হাতে। ভিডিওতে টাকা ভাগাভাগিতে যাদের দেখা গেছে, তাদের মধ্যে রয়েছেন সহকারী কারিগরি কর্মকর্তা মো. হারুন শেখ, সিনিয়র প্রকর্মী (জোনাল) ইসমাইল প্রধান, পিসি অপারেটর মো. হাসান ইমাম, সাহায্যকারী মো. সামছুদ্দিন ও সিনিয়র গাড়িচালক মো. সোলায়মান।

দেশের গ্রাহকদের উন্নত সেবা, প্রাকৃতিক গ্যাসের দক্ষ ব্যবহার নিশ্চিতকরণ ও গ্যাস বিপণনে সুশাসন নিশ্চিতকরণে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের আওতায় এবং পেট্রোবাংলার অধীনে তিতাস গ্যাস তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করে। এই সংস্থা ও তার কর্মচারীদের বিরুদ্ধে নিজেরা আর্থিক সুবিধা নিয়ে গ্যাস চুরি তথা অবৈধ সংযোগ এবং অননুমোদিত লোড দিয়ে রাষ্ট্রীয় বিপুল আর্থিক ক্ষতির অভিযোগ বহু পুরোনো। এবার ফতুল্লার আঞ্চলিক বিক্রয় অফিসে কয়েকজন কর্মচারীর টাকা ভাগাভাগির এমন দৃশ্য জ্বালানি খাতে সুশাসন প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।

জানা গেছে, প্রতিদিনই ফিল্ড থেকে অবৈধ টাকা সংগ্রহ করে তা সংস্থাটির সহকারী কারিগরি কর্মকর্তা মো. হারুন শেখের কক্ষে বসে ভাগভাটোয়ারা করা হয়। কালবেলার হাতে আসা ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, সহকারী কারিগরি কর্মকর্তা মো. হারুন শেখ তার নিজ কক্ষে বসে আছেন। আশপাশে দাঁড়িয়ে আছেন অন্য সবাই। সেখানে পিসি অপারেটর মো. হাসান ইমাম ১ হাজার টাকার কতগুলো নোট প্রথমে গণনা করেন। এরপর ছোট একটি স্লিপে সবার নাম লিখে লিখে টাকা দিচ্ছেন। বাকিরা হাসান ইমামের কাছ থেকে টাকা নিয়ে নিজেরাও গুনে নিচ্ছেন। এ সময় একজনকে বলতে শোনা যায়, ‘৫টা বেজে গেছে, তাড়াতাড়ি কর।’ আরও কয়েকটি ছবিতে দেখা যায়, লাল রঙের টিশার্ট পরিহিত সিনিয়র গাড়িচালক মো. সোলায়মান সবাইকে টাকা ভাগভাটোয়ারা করে দিচ্ছেন।

জানতে চাইলে মো. সোলায়মান কালবেলাকে বলেন, ‘আমার মায়ের চিকিৎসার জন্য আমার কলিগ হারুন শেখের কাছ থেকে কিছু টাকা ধার নিছিলাম। সেটা তাকে ফেরত দেওয়ার সময় কেউ একজন ছবি তুলেছে।’ পিসি অপারেটর মো. হাসান ইমামকে একাধিকবার ফোন দিলেও পাওয়া যায়নি।

সহকারী কারিগরি কর্মকর্তা মো. হারুন শেখ কালবেলাকে বলেন, ‘আমি আপনাকে কোনো কথা বলব না। এ ঘটনার পরে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আমি যা বলার কমিটির কাছে বলব।’

বক্তব্য জানতে তিতাস গ্যাসের ফতুল্লার আঞ্চলিক বিক্রয় অফিসের ব্যবস্থাপক মশিউর রহমানকে একাধিকবার কল দিলেও তিনি ধরেননি। এ ঘটনার পরপরই ওই পাঁচজনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

সূত্রঃ কালবেলা

Related posts

বিএনপিতে কোন অপরাধীর জায়গা নেই, রুপগঞ্জে শান্তির সমাবেশে বক্তারা

Bablu Hasan

গোলাম সরোয়ার সচিব নাকি প্রতারক

cnb editor

ওরা দেশকে গাজা,ফিলিস্তিন বানাতে চায়, নির্বাচনী প্রচারণায় একেএম শামীম ওসমান

Bablu Hasan