সিদ্ধিরগঞ্জ প্রতিনিধি: নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের আদমজী বিহারী ক্যাম্পের ব্যবসায়ী রমজানকে মাদক মামলায় ফাঁসানোর চেষ্টা করার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, রমজান এলাকার মাদকবিরোধী কার্যক্রমে সক্রিয় থাকায় স্থানীয় মাদক সিন্ডিকেট তাকে লক্ষ্যবস্তু করেছে এবং রমজানকে মাদক মামলায় ফাঁসিয়ে দিতে উঠেপড়ে লেগেছে।
এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে জানাগেছে, বিহারী ক্যাম্প এলাকার মানুষের বিপদে আপদে সুখে দুখে ব্যবসায়ী রমজান মিয়াকে পাওয়া যায়। ঠিকাদারী ব্যবসা করে রমজান অসহায় মানুষের সেবায় নিজেকে বিলিয়ে দিয়েছেন। পাঁচ আগষ্ট গণঅভূত্থানের পর বিহারী ক্যাম্প এলাকায় রমজানকে নিয়ে একটি মাদকের শক্তিশালী সিন্ডিকেট তার ক্ষতি সাধনে উঠে পরে লাগে। তাকে মাদকের মামলায় ফাঁসিয়ে দিতে নানা রকম ফন্দি ফিকির করতে থাকেন। এই সিন্ডিকেটের অন্যতম হোতা বিহারী ক্যাম্পের মাদকের ডিলার নামে পরিচিত বাবলা ও তার সেকেন্ট ইন কমান্ড তার ভাই মিঠুন। যারা ওই বিহারী ক্যাম্প এলাকা মাদকের বিস্তার ঘটাচ্ছে। প্রশাসনের সাথে গোপন সখ্যতা রেখে তারা দিনকে দিন মাদকের ভয়াল থাবায় এলাকার যুবক, কোমলমতি সন্তাদের ভবিষৎ নষ্ট করছে। ওদের বিরুদ্ধে মুখ খুললেই ওই ব্যক্তির উপর নেমে আসে হামলা, মামলা ও মানুষিক অশান্তি।
আফরোজা আক্তার নামে বিহারি ক্যাম্প এলাকার এক বাসিন্দা জানান, বাবলা ও তার সিন্ডিকেট পুরো বিহারী ক্যাম্প এলাকাকে মাদকের জোড়ারে ভাসিয়ে দিয়েছে। তার নেতৃত্বে বিহারী ক্যাম্পের সকল অলিগলিতে মাদকের বিস্তার ঘটাচ্ছে। এলাকাবাসীর গোপন সংবাদে বাবলাকে পুলিশ গ্রেফতার করলেও তার ভাই মিঠুন এখন মাদকের একচ্ছত্র অধিপতি বনে গেছেন বিহারী ক্যম্প এলাকায়। তাই মিঠুনকে গ্রেফতার করা হলেই মাদকের বিস্তার কমবে বলে তারা জানিয়েছেন।
ব্যবসায়ী রমজান বলেন, “আমি দীর্ঘদিন ধরে এলাকার শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য মাদকবিরোধী কাজ করে আসছি। এর প্রতিফল হিসেবে সিন্ডিকেট আমাকে ফাঁসাতে নানা ষড়যন্ত্র করছে। আমি চাই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এই ষড়যন্ত্রের পেছনের সত্যতা উন্মোচন করুন।
রমজান আরো জানান, বিভিন্ন সময়ে মাদক বিক্রির বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন এবং এলাকার যুবকদের মাদকাসক্তি থেকে বিরত রাখার চেষ্টা করেছেন। এর ফলে ক্ষুব্ধ হয়ে সিন্ডিকেটটি তার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগে মামলা দায়ের করার পরিকল্পনা করছে।
সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুল বারিক জানান, আদমজী বিহারী ক্যাম্পে মাদকের বিস্তার রোধে আমরা কাজ করছি। মাদকের সিন্ডিকেট ধরতে আমরা সাড়াশি অভিযান পরিচালনা করবো। এছাড়াও ইতিমধ্যে মাদক ব্যবসায়ী বাবলাকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। বাবলার ভাই মিঠুনকেও গ্রেফতার করা হবে।
র্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ান র্যাব-১১ এর অধিনায়ক লেঃকর্নেল এইচ এম সাজ্জাদ হোসেন বলেন, যারা মাদকের সাথে জড়িত তাদের কোন ভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না।
previous post


