
ইউপি চেয়ারম্যান জাহেদ আলীর নিয়মেই চলছে নারায়ণগঞ্জের কায়েতপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রম। অভিযোগ রয়েছে, ইউনিয়নের ওয়ারিশ সনদ জিম্মি করে রেখেছেন তিনি। কেউ সনদ নিতে এলে জাহেদ আলী তার কাছে কম দামে জমি বিক্রির শর্ত জুড়ে দেন। বনিবনা না হলে নিজের পেটোয়া বাহিনী দিয়ে চালান হয়রানি ও নির্যাতন। চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি জাহেদ আলীর এসব অপকর্মে সহযোগিতা করছে তারই ছেলে, ভাগ্নে ও পিএস রবি রায়ের নেতৃত্বে চলা একাধিক বাহিনী।
সূত্রে জানা গেছে, জাহেদ আলীর নির্যাতনে এলাকাছাড়া রয়েছে শতাধিক পরিবার। ছেলে নাহিদ ও ভাগ্নে আলমগীরের সন্ত্রাসী বাহিনীর কল্যাণে পিরুলিয়া, দক্ষিণপাড়া, বড়ালু এলাকা অনেকটাই নিজের নিয়ন্ত্রণে রেখেছেন জাহেদ আলী। সদ্য গ্রেপ্তার ইউপি সদস্য বজলুর রহমানও ছিলেন তার তুরুপের তাস।
২০১০ সালে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন জাহেদ আলী। তখন মানুষের জমি বিক্রির প্রক্রিয়া আটকে দিতেন দলীয় প্রভাব খাটিয়ে। তার ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানায়, রবি রায়ের মাধ্যমে কায়েতপাড়া, নয়ামাটি, দেইলপাড়া, দক্ষিণপাড়া, পিরুলিয়া এলাকার অনেক হিন্দু ধর্মাবলম্বীর জমির ‘খাড়া দলিল’ বানিয়ে সেগুলোও দখলে নিয়েছেন জাহেদ আলী।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে দক্ষিণপাড়ার এক বাসিন্দা বলেন, চলতি বছরের অক্টোবরে দক্ষিণপাড়ার অলিউর রহমান অলিকে তার জমি নামমাত্র মূল্যে বিক্রি করতে বলেন জাহেদ আলী। অলিউর রাজি না হলে তাকে পূর্বগ্রামে থাকা একটি টর্চার সেলে নিয়ে যাওয়া হয়। একপর্যায়ে অলিকে বিভিন্ন মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়া ও মারধরের হুমকি দেয় জাহেদের পেটোয়া বাহিনী। এর দুদিন পরই হার্ট অ্যাটাক করে মারা যান অলিউর রহমান। তার সেই জমি দখলে নিতে এখনো চেষ্টা চালাচ্ছে জাহেদ আলীর পিএস রবি রায়।
এসব ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে এখন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে অলিউরের পরিবার। জাহেদ আলীর বাহিনীর ভয়ে মামলাও করতে রাজি নন তারা। নাওড়া এলাকার তপন কুমার দেব বলেন, ‘জাহেদ আলী নির্বাচিত হওয়ার আগেই আমার বাবার জমিতে তার নজর পড়ে। বাবা মারা যাওয়ার পর আমাদের নিজস্ব প্রয়োজনে ওয়ারিশ সনদ নিতে গেলে ছয় মাস ধরে ঘোরান তিনি। তিন মাস আগে আমাদের জমি তার কাছে বিক্রির শর্তে ওয়ারিশ সনদ দিতে রাজি হন জাহেদ আলী। কিন্তু বাজারমূল্যের অর্ধেক দাম বলায় আমরা বিক্রি করিনি।’
চনপাড়া এলাকার স্বপ্না বেগম জানান, ‘গ্রেপ্তার হওয়া বজলুর রহমানকে দিয়ে চনপাড়ার অনেক পরিবারকে এলাকাছাড়া করে তাদের বাড়ি দখল করেছেন জাহেদ আলী। যে জমিতে তার চোখ পড়ে সেটা যেভাবেই হোক তার দখল করতেই হবে।’
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফয়সাল হক কালবেলাকে বলেন, ‘কোনো জনপ্রতিনিধির বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ না পেলে তদন্ত বা পদক্ষেপ নেওয়া যায় না। লিখিত অভিযোগ পেলে অবশ্যই তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
সুত্র: কালবেলা


