সোনারগাঁও (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি: নারায়ণগঞ্জ সোনারগাঁও উপজেলায় বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশে সৌদি আরবে ‘কফি’শপে কাজের নামে ফাঁদে নিঃস্ব কলেজ ছাত্র মাহফুজে’র পরিবার’এই শিরোনাম সহ বিভিন্ন শিরোনামে সংবাদ প্রকাশ হলে সংবাদ প্রকাশের জেরধরে, ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ছবি এক ফ্রেমে বন্দি করে আদম বেপারী স্বপন নিজেকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ভাগিনা পরিচয়ে রাজধানী ঢাকা সহ ক্ষমতার মসনদে থাকা লোকাল এমপি আব্দুল্লাহ আল কায়সার হাসনাতের সাথে সখ্যতা বাড়িয়ে,এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে সহজ সরল মানুষদের বোকা বানিয়ে দূরপ্রবাসের মাটিতে বাঙালি দালালের হাতে তুলে দেয়। এই সফল ব্যবসায় ‘আদম বেপারী স্বপন আখের গুছিয়ে নেয়।এরই ধারাবাহিকতায় মাস্টার প্লানে’ পূর্ব পরিকল্পিতভাবে রিয়াদের মাটিতে বাঙালি দালাল কৌশলে কফি’শপের জায়গায় কৌশলে ১৮শ রিয়াল বেতনে সাপ্লাই কাজে মাহফুজে’র কয়েক সেকেন্ডের স্বীকারোক্তি মূলক ভিডিও ফুটেজ প্রবাস জীবনের চতুর্থ দিনের মাথায় ১৫ জানুয়ারিতে কব্জা করে নেন।গত ৩ জুন থেকে সংবাদ প্রকাশের পর, পূর্বে কব্জা করা ভিডিও ফুটেজ পুঁজি করে নিজের কুকর্ম ডাকতে কোন এক রুমে আরবিয়ান এক ভদ্রলোক’কে দিয়ে ভিডিও ফুটেজ তৈরি করে, গত সোমবার (৮ জুন) মো. রিপন নামে facebook আইডিতে প্রকাশ করা ফুটেজে সত্যটা না বলে প্রশ্ন এক রকম উত্তর বিপরীতমুখী। ভদ্রলোক আরবি ভাষায় প্রতিশোধে রাগান্বিত কন্ঠে আঙ্গুল উঁচিয়ে প্রবাসী মাহফুজ’কে গ্রেফতার পূর্বক সারা জীবন সৌদির মাটিতে পুলিশের হাতে কারাবন্দি করে রাখবে বলে হুমকি দেয়।
এব্যাপারে ফেসবুক আইডির মালিক মো.রিপন সাহেবের সাথে মোবাইলে কথা হলে তিনি বলেন, ভিডিও ফুটেজের ব্যাপারে আমি স্বপনের সাথে কথা বলেছি, স্বপনকে বলেছি, সবাইতো আর মিথ্যা কথা বলে না, স্বপনকে এও বলেছি আইডিতে কমেন্টে দেখতেছি যে অবস্থা,যে লোকগুলো পাঠাইছো একটা লোকও ভালো নেই। এই ঘটনায় ভুক্তভোগী প্রবাসীর পিতা গত (৩জুন) সংযুক্ত কপি সহ থানায় দেয়া অভিযোগ থাকায় ভিডিও ফুটেজের বিরুদ্ধে জিডি করেন-নি।
অভিযোগ ও সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে জানা যায়, উপজেলার সম্ভুপুরা ইউপির ১নং ওয়ার্ডের মৃত আলাউদ্দিনের ছেলে আদম বেপারী মোহাম্মদ স্বপন(৩৭) কফি’শপে কাজের নামে লোড-আনলোড তিন মাসের সাপ্লাই ভিসায় ৪ লাখ ২০ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়ে পার্শ্ববর্তী ইউপির মোগরাপাড়া ইউপির দমদমা গ্রামের মো.মোক্তার হোসেনের কলেজে পড়ুয়া IELTS করা ছেলে মাহফুজ’কে সৌদি আরব কফি’শপে কাজের জায়গায় (warehouse worker) লোড আনলোড তিন মাসের সাপ্লাই ভিসায় সৌদি আরব বাঙালি দালালের কাছে পাঠায়। ফুটেজে প্রতারক স্বপন প্রথমে পরিচয় করিয়ে দেন আঙ্গুল উঁচিয়ে হুমকি দেওয়া লোকটি সৌদি। ভিডিও শেষে আরবিয়ান মিশরী। ফুটেজে কফি’শপের কাজে ১৫শ’ রিয়াল বেতন,থাকা-খাওয়া ফ্রি, দুই বছর পরপর ২ মাসের ছুটিতে আপ-ডাউন টিকেট, আরবিয়ান ভদ্রলোকটির কাছে সত্যটা আড়াল করে, পূর্বে ধারণ করা কয়েক সেকেন্ডের মাহফুজে’র ভিডিও ফুটেজের প্রেক্ষিতে আরবি ভাষায়, এম্বাসিতে কমপ্লেন করে ব্ল্যাক লিস্টে ঢুকিয়ে সৌদি পুলিশের মাধ্যমে গ্রেফতার করে সারা জীবন সৌদির মাটিতে কারাবন্দি করে রাখবে।মাহফুজ’আর কোনদিন দেশে ফিরে আসতে পারবে না,আরো অন্যান্য কথা বলে প্রতিশোধের রাগান্বিত কন্ঠে আরবিতে আরবিয়ান ভদ্রলোক আঙ্গুল উঁচিয়ে হুমকি দেয়। প্রতারক স্বপনকে আরবিতে আরো প্রশ্ন করেন, মাহফুজ এর কাছ থেকে মোট কত টাকা নিয়েছো, প্রতারক ফুটেজে উত্তরে বলে আমি ৪০ হাজার রিয়াল,পরে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে বাংলা টাকায় ৪০ হাজার টাকা একবার বলে ৫ মাস, আবার বলে ৬ মাস পূর্বে মাহফুজে’র আব্বাকে ফেরত দিয়েছি ? আসল সত্যটা এয়ারপোর্ট ক্রস করেছে ১১ জানুয়ারি। গত ১৫ ফেব্রুয়ারি সোনারগাঁও রিপোর্টার্স ক্লাবের বৈঠকে উভয় পক্ষের সিদ্ধান্তে প্রতারক স্বপন স্বীকার করে মাহফুজ’কে অন্যত্র বদলি হওয়ার জন্য ফেব্রুয়ারি মাসের ভিতরে ২৫ শ’ রিয়াল বাংলা (৮২ হাজার ৫’শ) টাকা ফেরত দিবে। বৈঠকে উভয়পক্ষের সিদ্ধান্তে ফেব্রুয়ারি মাসে টাকা না দিয়ে এপ্রিলের প্রথম দিকে মনাইকান্দি গ্রামের ইমরানের হাতে ভুক্তভোগী প্রবাসীর পিতাকে বাংলা ৪০ হাজার টাকা ফেরত দেন। টাকা ফেরত দেওয়ার কয়েকদিন পরই বাংলাদেশ থেকে ট্রানজিট বিমানের রওনা হওয়া মাহফুজ সৌদি এয়ারপোর্ট ক্রস করেন ১১ জানুয়ারি, এয়ারপোর্ট মেয়াদে ১১ এপ্রিল তিন মাস পূর্ণ হলে প্রবাসী মাহফুজ সৌদির মাটিতে অবৈধ হয়ে যায়। প্রতারক স্বপনকে প্রশ্ন করেন, মাহফুজের ছবি আছে নাকি? প্রতারক স্বপন উত্তরে বলেছে ভিডিও ফুটেজ আছে।
সূত্র আরো জানায় ,গত ১১ জানুয়ারি সৌদিতে বাঙালি দালালের কাছে পৌঁছানোর পর চতুর্থ দিনের মাথায় প্রবাসী মাহফুজ নতুন মানুষ কিছু বুঝে ওঠার আগে কফি’শপে কাজ না দিয়ে,নিনজা নামে কোম্পানিতে সাপ্লাই কাজে মোটা বেতনের প্রলোভন দেখিয়ে অত্যন্ত নিখুঁতভাবে বাঙালি দালাল তৎকালীন পূর্ব পরিকল্পিতভাবে কৌশলে স্বীকারোক্তিমূলক কয়েক সেকেন্ডের একটি ভিডিও ফুটেজ কব্জা করে রেখেছিলেন।প্রবাসী মাহফুজ ও তার পরিবারকে প্রতারক চক্রের সক্রিয় সদস্য স্বপনকে অনতিলম্বে আইনের আওতায় আনলে আসল রহস্য বেরিয়ে আসবে।
সচেতন মহলের সূত্রমতে , আওয়ামী দোসর প্রতারক চক্রের সক্রিয় সদস্য মোহাম্মদ স্বপন দীর্ঘদিন যাবত এলাকার উঠতি বয়সী যুবকদের কফি’শপ,ফাইভ স্টার হোটেল, রেস্টুরেন্টের নামে ভালো ভালো চাকুরির প্রলোভন দেখিয়ে দূর প্রবাসে বাঙালি দালালের হাতে তুলে দেয়। মানব পাচারকারী চক্রের সদস্য স্বপনের খপ্পরে ভয়াবহ করাল গ্রাসে কবলিত প্রবাসের মাটিতে এক ভুক্তভোগী ২৮.৩.২৬ ইং তারিখে ফেসবুকে মানব পাচারকারী প্রতারক স্বপনেকে জুতার মালা পড়িয়ে ছবি পোস্ট করে, কিছু আমল নামা ফেসবুকের পাতায় তুলে ধরেন। এ ঘটনায় স্বপন ক্ষিপ্ত হয়ে ফেসবুক আইডির বিরুদ্ধে সোনারগাঁও থানায় সাধারণ ডায়েরি যার নং ১৪৯২ তাং ২৯.৩.২৬ ইং।


