সিদ্ধিরগঞ্জ প্রতিনিধিঃ নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের তিন নাম্বার ওয়ার্ডের সবত্রই মাদক মিলছে হাত বাড়ালেই। ওয়ার্ডটির সানারপাড় থেকে বটতলা, বাঘমারা থেকে নিমাইকাশারী, নূরবাগ, মাদানীনগর সকল স্থানে অনেকটা প্রকাশ্যেই মাদক বিক্রি করছে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট। এতে সহজেই মাদকাসক্ত হয়ে পড়ছে যুবসমাজ। স্থানীয়রা বলছেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের মোটা অংকের মুচলেকা দিয়ে দিন রাত সমানতালে মাদক বিক্রি করেছেন আলমগীর ও একরাম নামে দুই সহদরের নেতৃত্বে। এতেকরে উদ্বেগ, উৎকন্ঠায় রয়েছেন এলাকার সর্বস্তরের সাধারণ মানুষ।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের তিন নাম্বার ওয়ার্ডের মাদানীনগর চৌরাস্তা, রসুলবাগ ক্যানেলপাড়, বটতলা ক্যানেলপাড়, বিডিডিএল মাঠ, মদীনা ট্যাঙ্কির মোড়, বাঘমাড়া মসজিল গলি এলাকাসহ নিমাইকাশারীর ক্যানেলপাড় থেকে শুরু করে সকল স্থানেই পৌছে গেছে সহজলভ্য মাদক।
হাত বাড়ালেই সহজে মিলছে হেরোইন, ইয়াবা, মদ, গাঁজা, ফেনসিডিলসহ বিভিন্ন মাদকদ্রব্য। আলমগীর ও একরাম নামে দুই ব্যক্তি রাজনীতির ছত্রছায়ায় সহজেই এলাকায় মাদকের বিস্তার করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এই বাহিনীর মধ্যে আরো রয়েছে কমপক্ষে ২০/২৫ জনের সিন্ডিকেট। যাদের কাজই হলো মাদক বিক্রি মনিটরিং করা। মূল ডিলার আলমগীর একরামের হাতিয়ার হিসেবে পুরো এলাকায় মাদক পৌছে দেওয়া। যার ফলে স্কুল পড়–য়া সন্তানরা দিনদিনই মাদকের ভয়াল থাবায় পড়ছেন। কোনভাবেই এখান থেকে মুক্তি মিলছে না তাদের।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বাঘমারা এলাকার এক বাসিন্দা জানান, আলমগীর ও একরাম তারা দুই জন বিএনপির রাজনীতির সাথে জড়িত আছে এমন প্রভাব খাটিয়ে পুরো এলাকায় মাদকের বিস্তার করছে। তাদের সাথে রয়েছে প্রতিটি এলাকার অলিগলির কমপক্ষে বিশ থেকে পঁচিশজন বাউন্ডালে ছেলেপেলে যাদের কাজই হলো টাকার বিনিময়ে মাদক বিক্রি। আর মাদক ঠিকঠাক মতন বিক্রেতার কাছে পৌছালো কিনা সেটা খোঁজখবর রাখা।
আকলিমা আক্তার নামে দশম শ্রেনীর এক শিক্ষার্থী জানান, প্রতিনিয়তই বাসার সামনের গলিতে মাদকের বিক্রি হচ্ছে প্রকাশ্যে। আলমগীর ও একরাম নামে দুই মাদকের ডিলার পুরো এলাকায় মাদকের বিস্তার করছে বলে আমরা জানতে পেরেছি। এই দুই মাদকের ডিলারকে গ্রেফতার করা হলে মাদক বন্ধ হয়ে তিন নাম্বার ওয়ার্ড থেকে।
ওসামা ইসলাম নামে এক যুবক এই জানিয়েছেন, এই এলাকা থেকে মাদক উৎখাত করতে হলে আলমগীর ও একরাম নামে দুই মাদকের ডিলারকে গ্রেফতার করতে হবে। এরাই চেলাচামুন্ডা দিয়ে মাদক বিক্রি করছে এলাকার অলিগতিতে। আর বিএনপির নাম বিক্রি করে মাদকের শক্তিশালী হাতিয়ার হতে চাইছে। এলাকাল কোমলমতি সন্তানদের ভবিষৎ নষ্ট করার জন্য তারাই কাজ করছে। এদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতেই হবে।
সিদ্ধিরগঞ্জ থানার অফিসার্স ইনচার্জ মোহাম্মদ এমদাদুল হক জানান, তিন নাম্বার ওয়ার্ডের বিভিন্ন জায়গায় মাদকে ছেয়ে গেছে। দুজন মাদকের ডিলারের নাম আমরা শুনেছি। খুব দ্রুতই তাদের অভিযান পরিচালনা করে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হবে।
নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান মুন্সী জানান, মাদকের বিরুদ্ধে আমরা জিরো ট্রলারেন্স। কোন দল বুজি না। মাদকের সাথে যারাই জড়িত থাকবে তাকেই আইনের আওতায় আনা হবে। তিন নাম্বার ওয়ার্ডের দুই মাদকের ডিলারকে খুব দ্রুতই গ্রেফতার করা হবে।
র্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ান র্যাব-১১ এর অধিনায়ক লেঃকর্নেল এইচ এম সাজ্জাদ হোসেন জানান, মাদক যারাই বিক্রি করবে তদন্ত করে তাদেরই গ্রেফতার করা হবে। যারা মাদকের ডিলার তাদের কোনভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না।


