শনিবার ,   ১৪ই ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ ,   ২৯শে আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ,  ১৫ই রবিউল আউয়াল, ১৪৪৮ হিজরি
Cnbnews

এলাকাজুড়ে তীব্র সমালোচনার ঝড় সংবাদ সম্মেলনে মিথ্যাচার আওয়ামীলীগের দোসর দুই হযরতের

Print Friendly, PDF & Email

সিদ্ধিরগঞ্জ প্রতিনিধি: গত কয়েকদিন ধরেই নারায়ণগঞ্জ থেকে প্রকাশিত একাধিক দৈনিক পত্রিকা ও স্থানীয় এবং জাতীয় নিউজ পোর্টালে মিজমিজির দুই হযরত আওয়ামীলীগের দোসর, ৫ই আগষ্ট ছাত্রজনতা হত্যার মাষ্টারমাইন্ড দুই হযরত শীর্ষক শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়ে আসছিলো। গত ১৭ বছর আওয়ামীলীগের দোসরদের সাথে সখ্যতার ছবি ও ভিডিও রীতিমতো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে এবং সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক হাজী ইয়াসিন মিয়ার সাথেও গুরুত্বপূর্ণ মিটিং ও দেশের অস্থির অবস্থায় সাধারণ মানুষের উপর হামলার মাষ্টারপ্ল্যানের ছবিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার ও প্রকাশ পেয়েছে। এসব সংবাদে এই দুই আওয়ামীলীগের অন্যতম দোসরদের দ্রুত গ্রেফতার ও শাস্তির দাবি জানিয়ে এসেছেন স্থানীয় গ্রামবাসী। এসব সংবাদের ভূল ব্যাখ্যা দিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন মিজমিজির এলাকার এক নামে পরিচিত অত্যাচারী দুই হযরত। সংবাদ সম্মেলনের পর পুরো এলাকা জুড়ে নিন্দার ঝড় বইছে এই দুই হযরতকে নিয়ে। এলাকাবাসী বলাবলি করছেন ঝোঁপ বুঝে কোপ দেওয়াই হলো ছোট হযরত ও বড় হযরতের কাজ। গেল সতের বছর আওয়ামীলীগের সাথে আঁতাত করে সখ্যতা করে ব্যবসা পরিচালনা করেছেন বীরদর্পে। মিছিল থেকে মিটিং নির্বাচন থেকে বিবাহের দাওয়াত সকল স্থানেই ছিলো তাদের অবাধ বিচরণ। অথচ সংবাদ সম্মেলণ করে তাদের কৃতকর্মের সকল কিছরু মিথ্যা ব্যাখ্যা দেওয়ায় মিজমিজি এলাকার শত শত বাসিন্দারা বলছেন ছোট ও বড় হযরত রীতিমতো মিথ্যাচার করেছেন সংবাদ সম্মেলনে।
এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে জানাগেছে, গত ১৭ বছর ফ্যাসিষ্ট আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় থাকার সময় আওয়ামীলীগের পতাকাতলে ছিলো দুই হযরত। আওয়ামীলীগের সকল নির্বাচনের সময় ভোটে মাঠে এলাকার সকলস্তরের মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোট প্রার্থনা করেছেন নৌকা মার্কাকে বিজয়ী করতে। যার স্পষ্ট প্রমাণ ছবি ও ভিডিওতে রয়েছে। ইতোমধ্যে এসকল ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনায় এসেছেন। এছাড়াও জুলাই আন্দোলনের সময় ছাত্র জনতাকে রক্তাত্ব যখম, তাদের উপর নির্বিচারে মামলা, মামলা, বাড়িঘরে হামলা, ভাংচুর এসকল কাজের মাষ্টারমাইন্ডই ছিলেন দুই হযরত। টাকায় ভাড়াকরা লোক দিয়ে গণহত্যার মতো নৃশংতা চালিয়েছেন তারা। অথচ এখন নিজেকে ধোয়া তুলশি পাতা সাজিয়ে মিথ্যাচার করছেন এমনটাই সাধারণ মানুষের অভিমত।
নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক মিজমিজি বাতানপাড়া এলাকার একাধিক বাসিন্দারা জানিয়েছেন, মিজমিজি এলাকার দুই হযরত গেল আওয়ামীলীগের শাসনামলে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক হাজী ইয়াসিন মিয়ার অন্যতম সহযোগী ছিলেন। নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য শামীম ওসমানের আস্থাভাজন হয়ে কাজ করেছেন গেল সতের বছর। নিজেদের ব্যবসা, বাণিজ্য, এলাকায় ধাম্ভিকতা সবই চলতো রক্তচক্ষু গরম করে। যার অন্যতম কারণ তারা ওসমান পরিবারের লোক। পুরো এলাকাটিতে ত্রাসের রামরাজত্ব কায়েম করছেন তারা। ৫ই আগষ্টের ক্ষমতার পট পরিবর্তনে খোলশ পাল্টিয়ে হয়েছেন পুরোদমে বিএনপির লোক। অথচ গত সতের বছরের এত এত ছবি, ভিডিও, মানুষের চাক্ষুশ প্রমাণ সকল কিছুই নিমিশেই মিছে বানিয়ে ফেলে সংবাদ সম্মেলণে নিজেদের মাসুম বাচ্চার মতো প্রমাণ করার নিষ্ফল চেষ্টা চালিয়েছেন মিজমিজির ত্রাস হিসেবে পরিচিত ছোট ও বড় হযরত।
আকলিমা আক্তার(ছদ্মনাম) এক নারী জানান, গত সতের বছর এই দুই হযরত জ্বালিয়েছেন পুরো এলাকাজুড়ে। ক্ষমতার পালাবদলে এরাই আবারো সাবেক কাউন্সিলর ইকবাল হোসেনের সাথে সখ্যতা করে নিজেদের বিএনপির আস্থাভাজন হিসেবে পরিচিত করতে হুমড়ি খেয়ে পড়ছেন। পুরো এলাকায় সাবেক কাউন্সিলর ইকবাল হোসেন আস্থাভাজন পরিচয় দিয়ে সাধারণ মানুষের উপর অত্যাচার নির্যাতন চালিয়ে যাচ্ছেন। এদের দ্রুত গ্রেফতার করে রিমান্ডে আনলেই বেরিয়ে আসবে আসল রহস্য। বলে দিবে গত সতের বছর কিভাবে মানুষের উপর অত্যাচার নির্যাতনের স্টিম রোলার চালিয়েছেন।
আব্দুর রহিম নামে এক বাসিন্দা জানিয়েছেন, পুরো এলাকার মানুষ জানে এই দুই হযরত আওয়ামীলীগের লোক। এরা সাবেক কাউন্সিলর বিএনপির নেতা ইকবাল হোসেনের সাথে হাত মিলিয়ে মামলা থেকে বেঁচেছে। ৫ই আগষ্টের আগের দিন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক হাজী ইয়াসিন মিয়ার সাথে ছাত্র জনতার উপর হামলা, মামলা এমনকি গুলি চালানোর জন্য রুদ্ধদার মিটিং করেছেন যার ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। তারপর তারা মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে কাউন্সিলর ইকবালকে ম্যানেজ করে বিএনপির তালিকায় নিজেদের নাম লিখিয়ে পুলিশের হাতে আটক থেকে বাঁচার চেষ্টা করছে। তবে ওরা পার পাবে না। প্রশাসন সকল কিছু সঠিক তদন্ত করে তাদের দ্রুত গ্রেফতার করবে।
সিদ্ধিরগঞ্জ থানা বিএনপির একাধিক কর্মীরা জানিয়েছেন যারা নিজেদের আখের গুছাতে নিদের মামলা থেকে রক্ষা করতে আওয়ামীলীগের দোসর হয়েও বিএনপির নেতাকর্মীদের সাথে গোপনে হউক আর সরাসরি হউক সখ্যতা করছে। তাদের দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার জোড় দাবি জানিয়েছেন তারা।
নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তা মুন্সী মিজানুর রহমান জানিয়েছেন, যারা আওয়ামীলীগের দোসর হয়ে এখনও সামাজের বিভিন্ন শ্রেনী পেশার মানুষকে হয়রানী করছে। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ পেলেও আমরা ব্যবস্থা গ্রহন করবো।

Related posts

ভবিষৎ প্রজন্মের জন্য বসবাস যোগ্য বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই: অধ্যাপক মামুন মাহমুদ

Bablu Hasan

এনআইডি কার্ডের তথ্য চুরি করে ব্যাংক কর্মকর্তার ঋণ-জালিয়াতি

Bablu Hasan

মোহাম্মদ হাতেমের সাথে ঔদ্ধত্য আচরণ করা সেই ছাত্রদল নেতার ক্ষমা চেয়ে দুঃখ প্রকাশ

Bablu Hasan