সিএনবি নিউজঃ বন্দর প্রতিনিধিঃ অবৈধ আয়ে বিপুল পরিমানে সম্পদের পাহাড় গড়েছেন মিজানুর রহমান নামে এক ব্যক্তি। সামান্য ক্লাকের চাকুরী দিয়ে শুরু করেন কর্মজীবন। গেল সতের বছর আওয়ামীলীগের নাম ভাঙ্গিয়ে অবৈধ পন্থায় কোটি কোটি টাকার মালিক বনে গেছেন। দূর্ণীতি দমন কমিশন দূদক তার সম্পদের হিসেব করলেই বেরিয়ে আসবে আসল রহস্য।
অনুসন্ধানে জানাগেছে, নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার উপ-সহকারী প্রকৌশলী মিজানুর রহমানের এক সময় কিছুই ছিলো না। সামান্য ক্লাকের চাকুরীর মাধ্যমে কর্মজীবন শুরু করেন। সরকারি পদকে ব্যবহার করে ঘুষ, দূর্ণীতি ও অনিয়মের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার সম্পদের মালিক হয়েছেন। ২০০০ সালের মিজানুর রহমান চট্টগ্রামের মীরসরাই উপজেলায় অফিস ক্লার্ক হিসেবে যোগদান করেন। পরে দীর্ঘ সময় চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড এলাকায় কর্মরত ছিলেন। ওই সময় তৎকালীন গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কারণে বিভিন্ন অবৈধ পন্থায় টাকা কামিয়েছেন। শুধু তাই সাবেক এই প্রভাবশালী মন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ হওয়ায় ২৪ বছর তিনি একই জায়গায় চাকুরী করেছেন। দীর্ঘ সময়ে যতই বদলীয় অর্ডার এসেছে তিনি গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের নাম ব্যবহার করে বদলির আদেশ বাতিল করেছেন। ফ্যাসিষ্ট সরকারের দোসর হয়ে অবৈধভাবে কাড়ি কাড়ি টাকার মালিক হয়েছেন মিজানুর রহমান। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, রাজধানী ডেমরার রসুলনগর (পশ্চিম টেংরা) এলাকায় মিজানুর রহমানের রয়েছে পাঁচতলা বহুতল ভবন, যার আনুমানিক মূল্য সাড়ে ছয় কোটি টাকা। মিজানুর রহমানের স্ত্রীর নামে ঢাকায় প্রায় ৮০ লাখ টাকা মূল্যের ১ হাজার ৭৫০ বর্গফুটের একটি ফ্ল্যাট। একটি শপিং কমপ্লেক্সে প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ টাকার শেয়ার। মিজানুর রহমানের গ্রামের বাড়ি ফেনীর পরশুরাম উপজেলার উত্তর ধনীকুন্ডা গ্রামে প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত তিনতলা বাড়ি। একই এলাকায় প্রায় ২ কোটি ৫০ লাখ টাকা মূল্যের একটি মার্কেট। প্রায় ৪৫০ শতাংশ কৃষিজমি, যার বাজারমূল্য প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ টাকা। এছাড়া নামে-বেনামে আরও প্রায় কয়েক কোটি টাকার সম্পদ রয়েছে তার। একজন সামান্য কার্ক থেকে চল্লিশ হাজার টাকা বেতনের কর্মচারি মিজানুর রহমান প্রায় অর্ধশত কোটি টাকার মালিক কিভাবে বনে গেছেন এই চিন্তা করলেই ওই এলাকার যে কারোই চোখ চরক গাছে উঠে যায়।
দীর্ঘ ২৪ বছর মিজানুর রহমান যেই উপজেলায় কাজ করেছেন সেই মীরসরাই উপজেলার এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ করার শর্তে জানিয়েছেন, গেল সতর বছর ফ্যাসিষ্ট সরকারের ছায়াতলে ছিলেন মিজানুর রহমান। আওয়ামীলীগের কর্মীদের দোহাই দিয়ে তাদের উপর ভর করে অনিয়ম দূর্নীতির মাধ্যমে প্রচুর পরিমাণে অর্থ কামিয়েয়েছেন। তার টেবিলে যেই ফাইলই গিয়েছে তা ছাড়াতে গুনতে হয়েছে তার দেওয়া নির্দিষ্ট হারে চাঁদা। এক কথায় চাঁদা ছাড়া ফাইল ছাড়তেনই না মিজানুর রহমান।
আবুল কালাম নামে এক ভূক্তভোগী জানিয়েছেন, উপ- প্রকৌশলী মিজানুর রহমান টাকা ছাড়া কোন কিছুই বুঝেন না। গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের নাম ভাঙ্গিয়ে তিনি তার আখের গুছিয়েছেন। অল্প সময়ের ব্যবধানে প্রচুর ধন সম্পদের মালিক বনে গেছেন। এক জন সামান্য সরকারি কর্মচারী হয়ে তিনি কিভাবে এত টাকার মালিক বনে গেছেন তার সঠিক খোজখবর নিলে বেরিয়ে আসবে মিজানুর রহমানের দূর্নীতির চিত্র। মীরসরাইয়ে কর্মরত অবস্থায় দুর্নীতির অভিযোগে একবার চাকরিচ্যুত হয়েছিলেন মিজানুর রহমান। পরে রাজনৈতিক তদবিরের মাধ্যমে তিনি চাকরিতে পুনর্বহাল হন। সুচতুর মিজান যখন যাকে প্রয়োজন স্বার্থের জন্য তাকেই ব্যবহার করেছেন।
২০২৪ সালের আগস্টে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তাকে ভোলার মনপুরায় বদলি করা হলেও পরে অদৃশ্য শক্তির ইশারায় নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলায় বদলি হয়ে আসেন সুচতুর মিজানুর রহমান। এখানে এসেও ঘুষ, দূর্ণীতিতে জড়িয়ে পড়েনে মিজানুর রহমান।
অভিযোগের বিষয়ে মিজানুর রহমান জানিয়েছেন পারিবারিক রোষানলের শিকার তিনি। সম্পদ যা কামিয়েছেন নিজের উপার্জিত টাকায়। তবে কিভাবে সামান্য টাকা বেতনের কর্মচারী এত টাকার মালিক বনে গেলেন তার কোন সঠিক উত্তর তিনি দিতে পারেন নি।
মিজানুর রহমানের ঘুষ, দূর্নীতি, অনিয়মের তথ্য নিতে গিয়েও এই প্রতিবেদক হয়রানির শিকার হয়েছেন। তার আত্মীয় ক্যাপ্টেন (অবঃ) আব্দুর রহিম, লিটন নামে দুই ব্যক্তি নিউজ না করে উল্টো আওয়ামীলীগের দোসর বৈষম্য বিরুধী হত্যা মামলার আসামী জসিম মেম্বারের বিরুদ্ধে নিউজ করতে বারংবার হুমকি প্রদান করেছেন এই প্রতিবেদককে।
বন্দর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা শিবানী সরকার জানিয়েছেন, উপজেলায় কাজ করছেন এমন কোন সরকারি কর্মকর্তা অবৈধভাবে সম্পদ উপার্জন করে থাকেন তার বিরুদ্ধে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে দূর্নীতি দমন কমিশন দূদকে অভিযোগ দিলে তার বিরুদ্ধে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক রায়হান কবীর জানিয়েছেন, নারায়ণগঞ্জে চাকুরীরত কোন সরকারী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দূর্ণীতির মাধ্যমে অর্থ উপার্জনের বিয়য়ে অভিযোগ পেলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


