সোমবার ,   ১৬ই অগ্রহায়ণ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ ,   ১লা ডিসেম্বর, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ,  ৯ই জমাদিউস সানি, ১৪৪৭ হিজরি
Cnbnews

সিম-বেগুনের দাম বেড়ে দ্বিগুন, নতুন আলুর দামও চড়া

Print Friendly, PDF & Email

তানিয়া তাহা, সিএনবি নিউজ, ঢাকা:  নিত্যপণ্যের বাজার হু হু করে দিন দিন বেড়েই যাচ্ছে। সপ্তাহের ব্যবধানে প্রায় অধিকাংশ শাখ সবজির দাম বেড়েছে। এতে করে সাধারণ মানুষের মাঝে নাভিশ^াস উঠেছে। বিশেষ করে নি¤œ মধ্যবিত্ত ও গরীবদের নাগালের বাইরে চলে যাওয়ার অহয়নীয় যন্ত্রনায় দিন কাটাচ্ছেন তারা। অনেকেই সীমাহিন দূর্ভোগে রয়েছেন। দ্রব্যমূল্যের পাগলা ঘোড়ার লাগাম টেনে না ধরলে আরো বিপর্যয়ের মুখে পড়বে দেশের জনগণ।

রাজধানীর বাজার ঘুরে দেখাগেছে, সপ্তাহের ব্যবধানে বেড়েছে বেগুন ও করল্লাসহ অধিকাংশ সবজির দাম। সেই সাথে দাম বেড়েছে বিভিন্ন ধরনের মাছের ও বাজারে আসা নতুন আলুর। তবে কমেছে গাজর,মূলা পেয়াজপাতা ও রশুনের দাম। অপরিবর্তিত রয়েছে ডিম, চাল ও চিনির বাজার। খুচরা বাজারে প্রতিকেজি নতুন পেয়াজ (মুড়িকাটা) বিক্রি হচ্ছে একশ থেকে একশত দশ টাকা।

যা গত সপ্তাহে বিক্রি হয়েছিলো এক’শ থেকে এক”শ বিশ টাকায়। ভারতীয় পেয়াজ প্রতি কেজি এক’শ দশ থেকে এক’শ বিশ টাকায় যা গত সপ্তাহে বিক্রি হয়েছিলো এক’শ ত্রিশ থেকে এক’শ চল্লিশ টাকায়। আর খুচরা বাজারে পোল্টি মুরগী ডিমের হালি গত সপ্তাহের দরে চল্লিশ থেকে বেয়াল্লিশ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

বাজারে আসা নতুন কার্ডিনাল আলু বিক্রি হচ্ছে সত্তর থেকে আশি, পুরাতন আলু ষাট থেকে পয়ষট্টি, শিল আলু সত্তর থেকে আশি টাকা, নতুন গ্রেনওয়েল আলুর দাম বেড়ে পঞ্চান্ন থেকে ষাট টাকা থেকে হয়েছে পয়ষট্টি থেকে সত্তর, জামআলু আশি থেকে নব্বই টাকায় কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

খুচরা বাজারে কাঁচামরিচ, আগের মতোই পাঁচত্তর থেকে আশি টাকা,দেশি আদা দু’শ বিশ থেকে দুই’শ ত্রিশ, ভারতীয় আদা দুই’শ চল্লিশ থেকে দুই’শ আশি টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়াও প্রতি কেটি টমেটো আশি থেকে নব্বই, গাজরের দাম কমে পঞ্চান্ন থেকে ষাট, চিকন বেগুন চল্লিশ থেকে বেড়ে পঞ্চান্ন থেকে ষাট টাকা, মাঝারি এবং গোল বেগুন পয়ত্রিশ থেকে চল্লিশ টাকা থেকে বেড়ে পয়তাল্লিশ থেকে পঞ্চাশ। পেপে আগের মতোই পঁচিশ থেকে ত্রিশ টাকা। করল্লা আগের মতেই আশি থেকে এক’শ টাকা। বরবটি পয়ত্রিশ থেকে চল্লিশ বেড়ে ষাট থেকে সত্তর টাকা।

লেবু প্রতি হালি পনের থেকে বিশ,শুকনো মরিচ পাঁচ’শ পঞ্চাশ থেকে ছয়’শত টাকা থেকে কিছুটা কমে চার’শ আশি থেকে পাঁচ’শ পঞ্চাশ টাকা, প্রতি পিছ লাউ (আকার বেদে) পঞ্চাশ থেকে আশি, ধনে পাতা পয়তাল্লিশ থেকে পঞ্চাশ,শশা পয়ত্রিশ থেকে চল্লিশ,প্রতি কেজি মিষ্টি কুমড়া চল্লিশ থেকে পয়তাল্লিশ, সিম পঞ্চান্ন থেকে ষাট টাকা থেকে বেড়ে সত্তর থেকে নব্বই, বাধা কপি আগের মতোই পয়ত্রিশ থেকে চল্লিশ, ফুলকপি ত্রিশ থেকে চল্লিশ টাকা থেকে বেড়ে পঞ্চাশ থেকে ষাট, মুলা দশ থেকে পনের টাকা থেকে বেরে বিশ থেকে ত্রিশ, দেশি রশুনের দাম তিন’শ থেকে তিন’শ বিশ টাকা দাম কমে দুই’শ চল্লিশ থেকে দুই’শ পঞ্চাশ, ভারতীয় রশুনের দাম আগের মতোই দুশো ষাট থেকে দুশো আশি টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে বাজারে সব ধরনের শাকের আটির দাম কমে বিক্রি হচ্ছে পনের থেকে বিশ টাকা।

মুরগীর বাজার ঘুরে দেখা যায়, খুচরা বাজারে বয়লার মুরগীর এক’শ ষাট থেকে এক’শ সত্তর টাকা থেকে বেড়ে এক’শ পচাশি থেকে এক’শ নব্বই টাকা। পাকিস্তানি মুরগী দু’শ আশি থেকে বেরে তিন’শ থেকে তিন’শ বিষ টাকা। তবে দেশি মুরগীর দাম আগের তুলনায় সামান্য কমে তিন’শ ত্রিশ থেকে তিন’শ পঞ্চাশ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
বাজারে গরুর মাংস আগের মতোই ছয়’শ পঞ্চাশ থেকে সাত টাকা এবং বকরি বা ভেড়ার মাংস আট’শ থেকে ন’শ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

বাজারে ঘুর আরো দেখা যায়, খুচরা বাজারে এক লিটার বোতলজাত করন সয়াবিন তেল এক’শ সত্তর টাকা ও দুই লিটার তিন’শ আটান্ন থেকে তিন’শ ষাট টাকা। এছাড়াও খোলা সয়াবিন তেল এক’শ ষাট থেকে এক’শ সত্তর টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
খুচরা বাজারে চালের দাম, স্বর্না (মোটা) চাল গত সপ্তাহের মতোই আটচল্লিশ থেকে পঞ্চাশ, পাইজাম বায়ান্ন থেকে পঞ্চান্ন, জিরা শাইল আটান্ন থেকে ষাট টাকা থেকে বেরে পয়ষট্টি থেকে সত্তর টাকা, বিআর-২৮ তেষট্টি থেকে সত্তর টাকা থেকে কমে পঞ্চান্ন থেকে আটান্ন, মিনিকেট আটষট্টি থেকে সত্তর টাকা থেকে কমে ষাট থেকে পয়ষট্টি ও নাজির সাইল সামান্য কমে সত্তর থেকে আটাত্তর টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

খুচরা বাাজরে খোলা চিনি গত সপ্তাহের দরে এক’শ চল্লিশ টাকা, প্যাকেটের আটা পঞ্চাশ থেকে পঞ্চান্ন টাকা ও খোলা আটা পয়তাল্লিশ থেকে সাতচল্লিশ টাকা। ছোলা বুট নব্বই থেকে পচানব্বই টাকা এবং প্যাকেট ময়দা সত্তর টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

বাজারে মশুর ডাল (মাজারি) এক’শ থেকে এক’শ পাঁচ টাকা, চিকন মশুর এক,শ ত্রিশ থেকে এক,শ চল্লিশ টাকা, মুগ ডাল এক’শ চল্লিশ টাকা থেকে এক’শ পঞ্চাশ টাকা। বুটের ডাল নব্বই থেকে পঁচানব্বই টাকা বিক্রি হচ্ছে।
আকার বেদে রুই মাছ তিন’শ থেকে তিন’শ পঁচিশ, মৃগেল দুই’শ পঞ্চাশ থেকে দুই’শ সত্তর টাকা, পাঙ্গাস এক’শ আশি থেকে দুশো, তেলাপিয়া এক’শ সত্তর থেকে দুশো, কাতল মাছ তিন,শ পঞ্চাশ থেকে তিন’শ সত্তর। শিং চারশো পঞ্চাশ থেকে পাঁচ’শ, চিৎড়ি সাত’শ থেকে আট’শ টাকা, পাবদা মাছ তিন’শ পঞ্চাশ থেকে তিন’শ ষাট, সিলভার কাপ প্রতি কেটি এক’শ সত্তর থেকে দুশো পঞ্চাশ টাকা। দেশি কই মাছ বারো’শ থেকে পনের’শ টাকা, ভাটা মাছ এক’শ আশি থেকে দুশো কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। রাজধানীর সর্ববৃহৎবাজার কাওরান বাজারে গিয়ে আকলিমা আক্তার নামে এক গার্মেন্টসকর্মীর সাথে কথা হয়। তিনি জানান, বাজারে আগুন জ¦লছে। থামানোর কেউ নেই। আমরা অসহায় অবস্থায় আছি। মাসে যা বেতন পাই ঘরভাড়া দিয়ে বাজার করার জন্য অবশিষ্ট কিছুই থাকেনা। তাছাড়া আগে ডাল, ডিম, ডাল দিয়ে খেতাম এখন তাও পারি না।

 

সিদ্ধিরগঞ্জের মাদানীনগর বাজারের সবজি বিক্রেতা ফোরকন হোসেন সিএনবি নিউজকে জানান, এখন শীত কালিন সবজির ভরা মৌসুম, এরপরও কিছু সবজির আমদানি কমে গেছে। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় দাম বেড়েছে। তিনি জানান, গত সপ্তাহের তুলনায় এ সপ্তাহের কিছু সবজির দাম বেড়েছে ও কিছু সবজির দাম কমেছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, যেমনিভাবে দ্রব্রমূল্যের দাম তরতর করে বাড়ছে এভাবে বাড়লে সরকার ক্ষমতায় আশা মুশকিল হয়ে যাবে। তবে সঠিক বাজার মনিটরিং এর মাধ্যমে সিন্ডিকেট ভেঙ্গে বাজার আগের জায়গায় ফিরানো দাবি তাদের।

Related posts

বাবার স্বপ্নপূরণ করতে নির্বাচনের মাঠে পাপ্পাগাজী

Bablu Hasan

বিজয় দিবস উপলক্ষে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প করবে ডিএসইসি

Bablu Hasan

আওয়ামীলীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা মনোনয়ণ দিলে, জনগণের সেবা করতে চান কামরুল হাসান রিপন

Bablu Hasan