স্টাফ রিপোর্টার: নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের নয়মাস পর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে নাসিকের প্যানেল মেয়র নির্বাচন। নির্বাচনকে সামনে রেখে ভোটার ও প্রার্থীদের মাঝে উৎসব উদ্দীপনা বিরাজ করছে। অনেকেই তাদের পছন্দের প্রার্থীকে বিজয়ী করতে ভোট প্রার্থনায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের প্যানেল মেয়র-২ এর জনপ্রিয়তায় এগিয়ে রয়েছেন নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের ৩ নং ওয়ার্ডে তিন বারের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি শাহজালাল বাদল। এরই মধ্যে কাউন্সিলর শাহজালাল বাদলের নাম প্যানেল মেয়র হিসেবে সিটি কর্পোরেশনসহ আশপাশের এলাকায় আলোচনায় রয়েছেন। প্যানেল মেয়র নির্বাচন নিয়ে রীতিমতো চায়ের কাপে ঝড় তুলছেন প্রার্থী ও ভোটাররা।
নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের এক কাউন্সিলর এই প্রতিবেদককে জানান, প্রার্থী যারাই হউক না কেন। একজন কিন্তু প্রিয় থাকেন সবার। এমনই একজন শাহজালাল বাদল। অত্যন্ত নর্ম, ভদ্র, মানবিক গুনাবলি রয়েছে তার মধ্যে। কাউন্সিলর হিসেবেও ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছেন। তিন তিনবার নির্বাচিত হয়েছেন নাসিকের ৩ নং ওয়ার্ডে। তাকে দিয়েই সিটি কর্পোরেশনের উন্নয়নের কাজ হবে। এমন প্রার্থীকেই আমরা নির্বাচিত করব।
স্থানীয়রা বলছেন, নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের যেকটি ওয়ার্ড রয়েছে তার মধ্যে একটি ব্যতিক্রম ওয়ার্ড নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের ৩ নং ওয়ার্ড। এক সময় এই এলাকায় রাস্তাঘাট, কালভাট, ব্রিজ কিছুই ছিলনা। যাই ছিলো তা জনগণের চলাচলে অযোগ্য হিসেবেই বিবেচিত ছিলো। সামান্য বৃষ্টিতেই তলিয়ে যেত মানুষের বাড়িঘর। এই এলাকায় কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়ে শাহজালাল বাদল জনগুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো করছেন। চলাচলে রাস্তা করেছন, পয়;নিস্কাষনের জন্য ড্রেন, কালভাট করেছেন। কাচা রাস্তাকে পাকা করেছেন। ওয়ার্ডটিকে একটি মডেল ওয়ার্ডে রুপ দিয়েছেন।
মাদকের ভয়াল ধাবা থেকে কোমলমতি সন্তানদের রক্ষায় এলাকায় মাদক প্রতিরোধ কমিটি করে দিয়েছেন, বিচার শালিশের জন্য করেছেন পঞ্চায়েত কমিটি, ইভটিজিং, কিশোরগ্যাং ,বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে কার্যকরি ব্যবস্থা গ্রহন করেছেন। পাড়া মহল্লায় মুরুব্বীদের নিয়ে এলাকাটিকে একটি ডিজিটাল এলাকা হিসেবে গড়ে তুলেছেন। তাই প্যানেল মেয়র হিসেবে শাহজালাল বাদলই সবার সেরা। তার জনপ্রিয়তাই বেশী বলে মনে করেছেন সিটি এলাকার বাসিন্দারা।
৩ নং ওয়ার্ড কমিউনিটি পুলিশের সভাপতি এবং ওয়ার্ড পঞ্চায়েত কমিটির সাধারণ সম্পাদক শাহজাহান সাজু বলেন, কাউন্সিলর শাহজালাল বাদলের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় এই ওয়ার্ডটি এখন ডিজিটাল ওয়ার্ডে রুপ নিয়েছে। এই ওয়ার্ডটি সিটি কর্পোরেশনে অন্যান্য ওয়ার্ড থেকে ভিন্নতা পেয়েছে। এক সময়ের কাচা রাস্তা এখন পাকা হয়েছে। প্রতিটি অলিগতিতে পাকা রাস্তা হয়েছে। রাস্তায় এলইডি বাতি বসানো হয়েছে। মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি বন্ধে সবসসয় কাজ করছেন কাউন্সিলর শাহজালাল বাদল। কিশোরগ্যাং, ইভটিজিং প্রতিরোধে সচ্চার সবসময় তিনি। এলাকার সকল শ্রেণী পেশার মানুষকে নিয়ে কাউন্সিলর শাহজালাল বাদল এলাকাটি গড়ে তুলেছেন উত্তম বসবাসের নগরী হিসেবে। তাই উন্নয়ন বান্ধব এই নেতাকেই নাসিকের প্যানেল মেয়র হিসেবে দেখতে চায় জনগণ।
এর আগে ২০১৬ সালের ২২ ডিসেম্বর সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনের পর ২০১৭ সালের ১১ সেপ্টেম্বর প্যানেল মেয়র নির্বাচন হয়। সে সময় প্যানেল মেয়র-১ পদে তিনজন প্রতিদ্বন্দি ছিলেন, তারা হলের সংরক্ষিত কাউন্সিলর আফরোজা হাসান বিভা, ১৩ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মাকসুল আলম খন্দকার খোরশেদ ও ১৭ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আব্দুল করিম বাবু। এসময় আফরোজা হাসান বিভা ১৬ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। প্যানেল মেয়র-২ পদে ৬ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আলহাজ্ব মতিউর রহমান মতি বিনা প্রতিদন্ধীতায় নির্বাচিত হয়েছেন। অপরদিকে প্যানেল মেয়র-৩ পদে তিনজন প্রতিদ্বন্দী ছিলেন, তারা হলেন সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর মিনু আরা বেগম, শারমিন হাবিব বিন্নী ও আয়েশা আক্তার দিনা। এসময় ১৪ ভোটে জয়ী হন মিনুয়ারা বেগম।
এর আগে ২০১১ সালের ২৭ ডিসেম্বর প্যানেল মেয়র নির্বাচন হয়। সেসময় নজরুল ইসলাম ১৮ ভোট পেয়ে হয়েছেন প্যানেল মেয়র-২। তার প্রতিদ্বন্দী ১৮ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর কামরুল হাসান মুন্না-৮ ভোট ও ২৪ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আফজাল হোসেন পান ১০ ভোট।
সিএনবি/সি এসএন


