সোমবার ,   ১৬ই অগ্রহায়ণ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ ,   ১লা ডিসেম্বর, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ,  ৯ই জমাদিউস সানি, ১৪৪৭ হিজরি
Cnbnews

খাদ্য সংকট নিরসনে সবাইকে একাট্টা হতে হবে

Print Friendly, PDF & Email

করোনা মহামারীর ধকল কাটিয়ে উঠতে না উঠতেই এলো রাশিয়া- ইউক্রেন যুদ্ধ। মানুষের অর্থনৈতিক দুর্বলতার মধ্যে যুদ্ধের প্রভাবে বাড়ছেই পণ্যমূল্য। যে কারণে খাদ্য সংকটের সম্ভাবনা দেখা দিচ্ছে। এই পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে মূলত মার্কিন মুদ্রা ডলার ও জ্বালানি তেলের উচ্চমূল্য, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে। সবকিছু মিলিয়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে।

রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাত চলছে, চলছে পাল্টাপাল্টি নিষেধাজ্ঞা। যার ফলে সারা বিশ্বের মানুষের কষ্ট ভয়াবহ আকার নিচ্ছে। আজকে শুধু বাংলাদেশ না, বিশ্বের প্রায় প্রতিটি দেশের সাধারণ মানুষ কষ্ট পাচ্ছে। মূল্যস্ফীতি বাড়ছে, নিত্যপণ্যের দাম বাড়ছে, বিদ্যুৎ গ্যাস এবং জ্বালানি প্রত্যেকটা জিনিসের দাম বেড়ে যাচ্ছে। এতে করে উন্নত দেশগুলোও এখন হিমশিম খাচ্ছে।

আমাদের দেশে অজস্র কর্মক্ষম মানুষ আছে যারা কৃষিকাজ জানে, আমাদের মাটি অত্যন্ত উর্বর, যেকোন জায়গায় বীজ ফেললে ফসলের সমারোহ দেখা দেয়। তাই সব জমিতে আবাদ করা গেলে আমাদের খাদ্য সংকট নিরসন সম্ভব। কিন্তু সার, বিদ্যুৎ, কীটনাশক সবই নিয়ন্ত্রণ করছে সিন্ডিকেট। সবকিছু সিন্ডিকেটমুক্ত করতে পারলে বাংলাদেশ খাদ্য সংকটে পড়বে না এটা নিশ্চিত। কিন্তু কৃষককে ফসল চাষের পরিবেশ দিতে হবে। তারপরও বিদ্যুৎ, পানি সবকিছু ব্যবহারে সাশ্রয়ী হতে হবে। সরকার যদিও আগাম খাদ্য আমদানি করছে। কিন্তু নিজেদের ফসল মাঠে থাকলে সংকট নিরসন সবচে সহজ হয়। আগামী বছরে বিশ্বে খাদ্য সংকট দেখা দিতে পারে। যা দুর্ভিক্ষে রূপ নিতে পারে। ইতিপূর্বে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থার খবরে প্রকাশ হয়েছে। যেসব দেশ খাদ্য সংকটে পড়বে তার মধ্যে বাংলাদেশের নামও আছে।

এমন পরিস্থিতিতে সম্প্রতি খাদ্য পরিকল্পনা ও পরিধারণ কমিটির বৈঠকে নিরাপদ মজুতের পরিমাণ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। সেখানে স্বাভাবিক খাদ্য নিরাপত্তা মজুতের পরিমাণ ১৩ লাখ টন এবং সংকটকালীন মজুতের পরিমাণ ১৪ লাখ টন নির্ধারণ করা হয়। বর্তমান খাদ্য নিরাপত্তা মজুতের পরিমাণ সাড়ে ১০ লাখ টন। চুক্তি অনুসারে চাল ও গম আমদানি এখন পর্যন্ত অপর্যাপ্ত। মোট চুক্তির ৭৪ শতাংশ খাদ্যশস্য এখনো দেশে আসেনি। অপরদিকে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের পূর্বাভাস-গত বছরের তুলনায় এবার ২৫ লাখ টন চাল উৎপাদন কম হবে। কমবে গম ও ভুট্টার উৎপাদন। এছাড়া কৃষকের কাছ থেকে ধান সংগ্রহ কম হয়েছে প্রায় পৌনে ৪ লাখ টন। জানতে চাইলে খাদ্য সচিব মো. ইসমাইল হোসেন এ প্রসঙ্গে গণমাধ্যমে বলেছেন, ডলারের মূল্য বৃদ্ধি বিশ্বখাদ্য বাজারে বিরূপ প্রভাব ফেলছে। এতে আমাদের আমদানি ব্যয় বেড়েছে। আমদানি করতে অতিরিক্ত অর্থের বিষয়টি দেখবে অর্থ মন্ত্রণালয়। আমরা পর্যাপ্ত খাদ্যশস্য আমদানির উদ্যোগ নিয়েছি। কয়েকটি দেশের সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী খাদ্যশস্য আসছে।

রাশিয়া থেকে এরই মধ্যে ৫০ হাজার টন গম আনা হয়েছে। অন্যান্য দেশ থেকে খাদ্য আমদানি হচ্ছে। মজুত নিয়ে কোনো সমস্যা হবে না। অন্যদিকে চলতি বছরের শুরুতে হাওরে বোরো ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়। আর আমন মৌসুমে বৃষ্টি কম হওয়ায় ধানের উৎপাদন কমতে পারে বলে পূর্বাভাস রয়েছে। সব মিলে এ বছর গত বছরের তুলনায় হেক্টরপ্রতি ফলন ১৩ দশমিক ১ শতাংশ কমবে যা ২৫ লাখ টনের মতো। এদিকে বাজারে নিয়ন্ত্রণহীন মূল্য পরিস্থিতি বিরাজ করছে। দেশ ও বিশ্ব উভয় বাজারেই পণ্যের দাম বাড়ছে। বিশ্ববাজারে মূল্য বৃদ্ধির প্রভাব পড়েছে দেশের বাজারের ওপর। এই অস্বাভাবিক মূল্য বৃদ্ধির কারণে মূল্যস্ফীতি ৯ শতাংশের ওপরে চলে গেছে। যা নি¤œ ও মধ্যম শ্রেণির ভোক্তাকে চরম বিপাকে ফেলছে। চাল সংগ্রহে লক্ষ্যমাত্রার পূরণ হলেও ধান সংগ্রহে লক্ষ্যমাত্রার অর্ধেকও পূরণ করতে পারেনি সরকার।

প্রাকৃতিক দুর্যোগে কম উৎপাদন, ব্যাংকিং চ্যানেলে লেনদেন, আর্দ্রতার সমস্যা এবং স্থানীয় বাজারে দাম বেশি হওয়ায় সরকারের গুদামে ধান কম বিক্রি করেছে কৃষক। সাধারণত একটি দেশে খাদ্য সংকট থাকলেও দুর্ভিক্ষ আসা সহজ ব্যাপার নয়। বণ্টন ব্যবস্থায় যদি অসমতা থাকে তাহলেই মাত্র সংকট তীব্র হয়। তাছাড়া সম্ভাব্য খাদ্য ঘাটতি মোকাবিলায় সবাইকে একাট্টা হতে হবে। সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগ এ ব্যাপারে যথাযথ ব্যবস্থা নিলে এ সংকট কাটিয়ে ওঠা কষ্টসাধ্য হবে না।

Related posts

প্রয়োজন সক্রিয় অর্থনৈতিক কূটনীতি – ড. রুবানা হক

Bablu Hasan

রাষ্ট্রের প্রধান দায়িত্ব সুশাসন নিশ্চিত করা: বদরুল হক

Bablu Hasan

৪৬০ স্কুলে নেই প্রধান শিক্ষক

Bablu Hasan