ফতুল্লা প্রতিনিধিঃ নারায়ণগঞ্জের সাইনবোর্ড এলাকায় দাবিকৃত চাঁদা না পেয়ে ফুডল্যান্ড নামে একটি কারখানায় হামলা,ভাঙচুর ও লুটপাট চালিয়েছেন একটি সন্ত্রাসী সিন্ডিকেট। সোমবার দুপুর ১২ টায় শান্তিধারা এলাকার শীর্ষ সন্ত্রাসী শাহাদাৎ হোসেন ওরফে পুলিশ শাহাদাৎ ও মান্নান শাহাদাৎ মিয়ার নেতৃত্ব ২০-২৫ জনের একটি সিন্ডিকেট এ হামলা ও লুটপাট চালায়। এসময় সন্ত্রাসীরা কারখানাটিতে থাকা আসবাবপত্র, দুটি মটর সাইকেল, ব্যবসায়িক কাজে ব্যবহৃত গাড়িসহ নগদ টাকা, শ্রমিকদের মোবাইল ফোন, এলপিজির সিলিন্ডার, ওভেন ও র মেটারিয়ালস লুট করে নিয়ে যায়। এসময় সন্ত্রাসীদের হামলায় আহত হয়েছেন ওই প্রতিষ্ঠানের ছয়জন শ্রমিক। আহতদের স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হবে।
ফুডল্যান্ড কারখানার মালিকের স্ত্রী শারমিন সুলতানা জানিয়েছেন, বেশ কয়েকদিন যাবৎ তাদের কাছ থেকে ত্রিশ লক্ষ টাকা দাবি করে আসছিলো শান্তিধারা এলাকার ভূমিদস্যু শাহাদাৎ ওরফে পুলিশ শাহাদাৎ ও মান্নান শাহাদাৎ নামে দুই ব্যক্তি। দাবিকৃত চাাঁদা না পেয়ে তারা ফুডল্যান্ড কারখানার ক্ষতি সাধনে মরিয়া হয়ে উঠে। তিনি বলেন, প্রায় ১২ বছরেরও বেশী সময় ধরে দেশব্যাপী সুনামের সাথে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে ফুডল্যান্ড কোম্পানী। বেশ কিছুদিন যাবৎ আমাদের প্রতিষ্ঠানে আসিয়া সন্ত্রাসীরা স্টাফদের নিকট ত্রিশ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবী করে আসছে। কারখানার স্টাফরা আমাদের বিষয়টি জানালে আমরা চাঁদা দিতে অস্বীকার জানাই। চাঁদা না দিলে আমাদের প্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাংচুর লুটপাট চালাবে বলেও হুমকি দিয়েছে সন্ত্রাসীরা।
তারই ধারাবাহিকতায় ফতুল্লা থানাধীন ভূইগড় শান্তিধারাস্থ আমার মালিকানাধীন ফুডল্যান্ড প্রোডাক্টস কোম্পানী চলমান থাকাবস্থায়, গিরিধারা এলাকার মৃত নবী উল্ল্যাহর ছেলে শাহাদাত চৌধুরী, মৃত খোরশেদ মিয়ার ছেলে মাহফুজ, মৃতঃ আউয়াল মিয়ার ছেলে শিপলু ওরফে ইয়াবা শিপলু , শান্তিধারা এলাকার দেওয়ান সুলতান আহম্মেদের ছেলে রাকিবুল, গিরিধারা এলাকার জলিল মিয়ার ছেলে কাউসার মিয়া। শান্তিধারা এলাকার রাজু মিয়ার ছেলে আরমান মিয়া, শহিদ মিয়ার ছেলে রহমান মিয়া, যুবলীগ নেতা ওসমান গণি, বজলু মাঝির ছেলে সুজন মিয়া, হাকিম মিয়ার ছেলে রায়হান মিয়াসহ ৩০ থেকে ৪০ জনের একটি সিন্ডিকেট এসে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে কারখানায় প্রবেশ করে চাপাতি, হামাড়, লোহার রড, হকিস্ট্রিক, কাঠের ডাসা ইত্যাদি দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা ভাংচুর লুটপাট চালায়। কারখানাটির ম্যানাজার হারুন অর রশিদ জানান, সন্ত্রাসীরা প্রথমে প্রবেশ করেই আমার কাছে ত্রিশ লাখ টাকা চাঁদা চায়। আমি চাঁদা দিতে রাজি না হওয়ায় কারখানাটিতে ফিল্মিস্ট্যাইলে হামলা করে। লুটপাট চালায়। সব লুট করে দিয়ে যায়। মিজানুর রহমান তালুকদার (৫৫) সহ কর্মচারী সালাউদ্দিন (৪৫), রশিদ (৪৮), জসিম (৩২), আলী (২৮) গণ আগাইয়া আসিলে বিবাদীরা তাহাদেরকে এলোপাতাড়ী লোহার রড ও কাঠের ডাসা দিয়া বাইরাইয়া পিটিয়ে আহত করে। ক্যাশ ড্রয়ারে রক্ষিত কর্মচারী ও স্ট্যাফদের বেতন ও বিভিন্ন পন্যদ্রব্য বিক্রয়ের নগদ প্রায় নয় লাখ পঞ্চাশ হাজার টাকা লুট করে নিয়ে যায়। এছাড়াও তাহাদের হাতে থাকা হামাড়, লোহার রড, কাঠের ডাসা ও হকিস্ট্রিক দিয়ে আমাদের প্রতিষ্ঠানের ভিতরে থাকা কোম্পানীর দুটি কভার্ড ভ্যান, প্রতিষ্ঠানের দরজা ও জানালা, ফ্রিজ, থাই গ্লাস, বিভিন্ন মেশিনারীজ ও প্রতিষ্ঠানে স্থাপনকৃত ৫/৬টি সিসি ক্যামেরা সহ প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন উৎপাদিত পন্য সামগ্রী ভাংচুর ও লুটপাট করে বীরদর্পে চলে যায়। আমার ব্যবহৃত একটি হিরো কোম্পানীর মোটর সাইকেল, যার রেজি নং-ঢাকা মেট্রো-হ-৩২-৫৭২১, টিভিএস কোম্পানীর মোটর সাইকেল, যার রেজি নং-ঢাকা মেট্রো-হ-২০-২২৭৭ প্রতিষ্ঠানের ব্যবহৃত দুটি ল্যাপটপ,ছয়টি স্ট্যার্ণ ফ্যান, কমপক্ষে দুই লাখ টাকার কাঁচামালসহ হাতে কাছে যা পেয়েছে ভেঙ্গেছে আর লুটপাট করে নিয়ে গেছে।
এ বিষয়ে ফতুল্লা থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগীরা।
নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান মুন্সী কালের কন্ঠকে জানিয়েছেন, খবর পেয়ে ঘটনা স্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। অপরাধীরা যারাই হউক না কেন তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


